কলা খাওয়ার ৯ টি উপকারিতা | কখন খাবেন আর কখন খাবেননা

 

কলা খাওয়ার উপকারিতা

কলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। কলা আমাদের দেশীয় একটি ফল। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটে -বাজারে সব জায়গায় কলা পাওয়া যায়। দামে অনেক সস্তা কিন্তু পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি ফল এই কলা। কলাতে ক্যালোরির পরিমান ১০০.তাই শরীরের মোট ক্যালোরির চাহিদা কলা  একাই মেটাতে পারে। কলাতে রয়েছে প্রচুর খনিজ ,ভিটামিন এন্টিঅক্সিডেন্ট। তাই প্রতিদিন সকালের নাস্তায় কলা রাখতে বলেন অনেকেই।

কলা খাওয়ার উপকারিতা:

.কলায় রয়েছে পেকটিন ফাইবার। এই পেকটিন ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে কলা খাওয়া দরকার। এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্য ,আলসার ইত্যাদি সমস্যা দূরীভূত হয়।

.কলা পটাসিয়াম সমৃদ্ধ একটি ফল। শরীরে পটাসিয়ামের ঘাটতি পূরণে কলা খবই দরকারি। যারা প্রচুর তেলজাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন তারা প্রতিদিন একটি করে কলা খেতে পারেন কারণ কলাতে পটাসিয়াম থাকায় শরীরে তেল মসলার ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে বাধা প্রদান করে। এছাড়াও কলা মানব শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করে।

.পাকা কলায় এন্টিঅক্সিডেন্ট এর পরিমান অনেক বেশি। তাই পাকা কলা মানব শরীরের অনেক উপকার করে। ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন সকালের নাস্তার সাথে একটি করে কলা খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

.কলা হজমের সমস্যা দূর করে। একটি পাকা কলায় গ্রাম ফাইবার থাকে। ফলে, দৈনিক একটি করে কলা খেলে পেটের হজম ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পায়।

.কলা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগতেছেন তারা নিয়ম করে দৈনিক কলা খেতে পারেন। এতে করে আপনার শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে।

.পাকা কলা অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা  দূর করে। কারণ কলার মধ্যে প্রচুর আয়রন রয়েছে। শরীরের শক্তসল্পতা পূরণে কলা একটি আদর্শ সমাধান হতে পারে।

.কলায় রয়েছে পটাশিয়াম ম্যাগনেশিয়াম ,যা হাড় শক্তিশালী করে তোলে।

.আপনার যদি কাজ-কামে এনার্জি কমে যায় ,তাহলে দৈনিক - টি কলা খান। কারণ কলা এলার্জি বাড়িয়ে দেয়।

.একটি পাকা কলায় ৪০০ গ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে। আর এই পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখে। 

খালি পেটে কলা খেলে কি হয়?

অনেকেই আছেন সকালে খালি পেটে কলা খেয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের  মতে,সকালে খালি পেটে কলা খাওয়া মোটেই উচিত নয়। সকালে খালি পেটে কলা খেলে নিম্নোক্ত কয়েকটি সমস্যায় পড়তে পারেন।

.কলা অ্যাসিডিক উপাদানে ভরপুর।ফলে সকালে খালি পেটে কলা খেলে পেটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে। তাই খালি পেটে কলা খাওয়া উচিৎ নয়।

.কলা উচ্চ ফাইবারযুক্ত একটি খাবার। খালি পেটে কলা খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে।

.ভরাপেটে কলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর হয় কিন্তু সকালে খালি পেটে কলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

.খালি পেটে কলা খেলে শরীরে অবসাদ আসতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়ার উপকারিতা:

গর্ভাবস্থায় কলা কিছু বাড়তি সুবিধা দিয়ে থাকে। এই সুবিধাগুলোর কথা চিন্তা করে গর্ভাবস্থায় সীমিত আকারে কলা খাওয়া যেতে পারে :

.পাকা কলা ভিটামিন b সমৃদ্ধ। ভিটামিন b বমি বমি ভাব দূর করে।

.গর্ভাবস্থায় এডেমার প্রভাব লক্ষ করা যায়। এডেমার ফলে গোড়ালি ,পা শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টগুলোতে ফোলা ফোলা ভাব লক্ষিত হয়। কলা এসব সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

.গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাসে শরীরে অবসাদ চলে আসে ,এনার্জি থাকেনা। এসময় পাকা কলা খাওয়া দরকার। কারণ ,কলার মধ্যে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ জাতীয় সাধারণ শর্করা থাকে। এসব উপাদান তৎক্ষণাৎ এনার্জি বুস্টিং করে।

.গর্ভাবস্থায় অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। কলাতে প্রচুর আয়রন রয়েছে। ফলে গর্ভাবস্থায় কলা রক্তস্বল্পতা  পূরণে অনেকটাই সক্ষম।

.গর্ভের সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় পুস্টি খনিজ যোগায় কলা। ফলে শিশুর বিকাশে কলা অনেক গুরুপ্তপূর্ণ।

 তবে যাই হোকনা কেন ,গর্ভাবস্থায় বেশি কলা খাওয়া ভালো নয়। ভরাপেটে একটি করে কলা খেতে পারেন।

কলা খেলে কি ওজন বাড়ে ?

অনেকেই মনে করেন যে ,কলা ওজন বাড়ায়। ধারণাটি ভুল। কলা ওজন বাড়ায়না বরংচ ওজন কমায়। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিনের ডায়েটের তালিকায় কলা রাখতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রতিদিন ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করার আগে কলা খেতে বলেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

অতএব ,পুষ্টিগুণের বিবেচনায় কলা একটি উত্তম খাবার। প্রতিদিন একটি বা দুটি কলা খাবারের তালিকায় রাখা জরুরি। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি কলা মানবশরীরের এনার্জি বাড়িয়ে তোলে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ