ডালিম এর চোখধাঁধানো ১১ উপকারিতা । অপকারিতা অনেক কম

dalim


ডালিম

ডালিম। এর উপকারিতা বলে শেষ করা যাবেনা। এই ডালিম ফলকে অনেকে আবার বলে থাকে আনার,বেদানা ইত্যাদি । এর ইংরেজি নাম Pomegranate। ডালিমের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Punica granatum । এটি একটি জনপ্রিয় ,ঔষধি ও দামি ফল। ঔষধি কাজে ডালিমের ব্যবহার ব্যাপক।

ডালিমের পুষ্টিগুণ অনেক। বিশেষ করে রক্তশুন্যতা পূরণে এটি পরীক্ষিত একটি ফল। যদি এক সপ্তাহ ডালিম খান তাহলে আপনি পরিবর্তনটা জানতে পারবেন। ডালিমের অসাধারণ গুনের জন্য একে বেহেশতের ফল বলা হয়।

ডালিম এর উপকারিতা:

ডালিমের জাদুকরী পুষ্টিগুণ নিয়ে আজকে আলোচনা করবো। তাহলে চলুন শুরু করি :

১.ডালিম শরীরকে চাঙ্গা ও ফুরফুরে রাখে। কারণ ,ডালিম এ রয়েছে ভিটামিন K  ,C  ,B । আরও রয়েছে আয়রন ,জিঙ্ক ,পটাশিয়াম ,ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড এবং মিনারেলস।

২.যাদের অতিরিক্ত চুল পড়ে তাদের জন্য ডালিম খাওয়া অপরিহার্য। ডালিম চুল পড়া রোধ করে।

৩.ডালিম ত্বকের কালো ছাপ দূর করে। এছাড়াও ত্বকের বলিরেখা দূর করা  ,বয়সের ছাপ দূর করাসহ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

৪.ডালিমকে প্রাকৃতিক ইনসুলিন বলা হয়। ফলে ডালিম খেলে ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫.ডালিমে রয়েছে আন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এই কারণে ডালিম খেলে মুখের জীবাণু মরে যায় ,ফলে ক্যাভিটির মতো সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৬.ডালিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি থাকেনা।

৭.পুরুষের উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য ডালিম খুবই ভালো কাজ করে। আপনি কয়েকদিন ডালিম খেয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। বিশেষ করে যেসব পুরুষের উত্তজনা কম তারা নিয়মিত ডালিম খেলে তাদের আর ডাক্তার এর কাছে যেতে হবেনা।

৮.ডালিম শারীরিক দুর্বলতা ,অবসাদ ইত্যাদি দ্রুত দূর করে।

৯.ডালিমে রয়েছে প্রচুর আয়রন। এই আয়রন রক্তস্বল্পতা পূরণ করে। রক্তহীন রোগীর খাদ্য হিসাবে  ডালিম সেই প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

১০.গর্ভবতী নারীর জন্য প্রচুর আয়রন প্রয়োজন। তাই গর্ভবতী থাকাকালীন ডালিম খেলে গর্ভের সন্তান ও মা উভয়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

১১.প্রচন্ড গরমে অনেকে ডিহাইড্রেশন এ ভোগেন। এসময় ডালিম খেলে শরীরে পানির মাত্রা ঠিক থাকে।

ডালিম এর অপকারিতা :

স্বর্গীয় এই ফল আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি খাওয়া বারণ রয়েছে। কোন অবস্থায় ডালিম বা বেদানা খাওয়া নিষেধ এখন সেই বিষয়ে জানবো :

১.যাদের শরীরের রক্তচাপ কম তাদের জন্য ডালিম খাওয়া নিষেধ। কেননা ডালিমের রস রক্তের চাপ আরো কমিয়ে দেয় ,ফলে নিম্ন রক্তচাপসম্পর্ণ রোগীরা ডালিম খেয়ে মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে যাদের  উচ্চরক্তচাপ রয়েছে তাদের জন্য ডালিম অনেক ভালো ,কারণ ডালিম উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

২.ডালিম বা বেদানা অনেক ঠান্ডা একটি ফল ,তাই সর্দি -কাশি অবস্থায় এই ফল খেলে আরো ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয় রয়েছে।

৩.যাদের এলার্জিজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য ডালিম পরিহার করা দরকার। কারণ ডালিম বা বেদানা এলার্জি বাড়িয়ে তোলে।

৪.মানুসিক রোগে আক্রান্ত রোগীরা ডালিম খেলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

ডালিমের বিচির উপকারিতা :

ডালিমের যেমন বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে তেমনি এর বীজ,ছাল ,খোসা ও ফুলের মধ্যেও নানান ধরণের ঔষধি গুন্ রয়েছে।

ডালিমের বীজে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী উপাদান। তাই ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে এর বীজ থেকে উৎপন্ন তেল ভালো কাজ করে।

ডালিম গাছের মূলের ছাল ও এর কান্ড ফিতাকৃমির সংক্রমণে ভালো কাজ করে। আবার ডালিমের ফুল মহিলাদের ঋতুস্রাবজনিত সমস্যায় ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

ডালিম ও বেদানার পার্থক্য:

অনেকে ডালিম ও বেদানাকে আলাদা ফল হিসাবে গন্য করে থাকেন। কিন্তু বেদানা ও ডালিম একই। এই একটি ফলই বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। বেদানা ,আনার বা ডালিম এর বৈজ্ঞানিক নাম একত্রে Punica granatum এবং এদের ইংরেজি শব্দ হলো Pomegranate । হিন্দুস্তানী ও পশতু ভাষায় একে আনার বলা হয় আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় একে বেদানা বা ডালিম বলা হয়।

তবে আকারে ছোট ফলটিকে আমরা সাধারণত ডালিম বলে থাকি আর আকারে বড়ো ফলটিকে আমরা বেদানা বলে থাকি। এবার নিশ্চই ব্যাপারটি বুজতে পেরেছেন। 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ