শসা | শসার ১৬ টি উপকারিতা ও অপকারিতা

 শসা

শসা বহুল পরিচিত একটি নাম। এটি মূলত আমরা সবজি হিসাবে ব্যাবহার করে থাকি। শসার চাহিদা ব্যাপক। শসা না হলে যেমন রূপচর্চা পূরণ হয়না তেমনি শরীরের মেদ -ওজন কমাতেও এটি দারুন কার্যকর। এছাড়াও শসার রয়েছে অনেক গুন্। আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী উপাদান রয়েছে এই শসার মধ্যে শসাতে ক্যালোরির পরিমান খুবই কম থাকে। ১০০ গ্রাম শসাতে থাকে ১৩ ক্যালোরি।শসা বারোমাসে পাওয়া যায়। বারোমাসে পাওয়া গেলেও শীতকালে বেশি পাওয়া যায়।

শসা


শসার উপকারিতা অপকারিতা :

প্রথমে শসার উপকারিতা জেনে নিবো তারপর এর অপকারিতা জানবো। শসার উপকারিতা নিম্নরূপ…

১.কিডনির উপকারিতায় :শসা কিডনির জন্য অনেক উপকারী। এটি কিডনিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখার মাধ্যমে শসা আমাদের কিডনিকে সুস্থ ও সবল রাখে। তাই নিয়মিত একটি করে শসা খান।

২.মাথাব্যাথা দূর করে : শসায় প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি রয়েছে। তাই প্রতিদিন একটু করে শসা খেলে মাথাব্যাথা সমস্যার সমাধান হয়।

৩.বাতব্যথা দূর করে :শসা ও গাজরের রস একত্রে খেলে বাতব্যথা দূর হয়।

৪.চুলের সতেজতা বৃদ্ধি :শসার মধ্যে সালফার ও সিলিকা রয়েছে। এই উপাদান আমাদের মাথার চুলের সতেজতা বৃদ্ধি করে এবং চুলকে প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি হতে সহায়তা থাকে।

৫.মুখের জীবাণু ধ্বংস করে :এক টুকরো শসা কিছুক্ষন মুখের মধ্যে দিয়ে রাখুন। এতে শসার সাইটোকেমিক্যাল মুখের মধ্যে বিক্রিয়া ঘটিয়ে মুখের জীবাণু ধংস করে। ফলে মুখের দুর্ঘন্ধ দূর হয়।

৬.ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণ করে : প্রতিদিন একটি করে শসা খেলে ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণে থাকে। আপনি যদি ডায়াবেটিকস রোগী হয়ে থাকেন তাহলে এই ফর্মুলা ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। অনেক উপকার পাবেন।

৭.ক্যান্সার প্রতিরোধ করে : শসা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। কারণ শসার মধ্যে তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান রয়েছে। এই উপাদানগুলো হলো :, ল্যারিসিরেসিনোল সিকোইসোলারিসিরেসিনোল, ও পিনোরেসিনোল।এই তিনটি উপাদান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে জোরালো ভূমিকা পালন করে।

৮.চোখের সমস্যা দূর করে :শসা গোল করে কেটে চোখে বসিয়ে রাখলে চোখের পাতায় থাকা বিভিন্ন ময়লা দূর হয় এবং চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়। এই ফর্মুলা চোখের ছানি পড়া ঠেকাতেও কাজ করে।

৯.ওজন কমানোর আদর্শ টনিক :শরীরের ওজন কমাতে সারা পৃথিবীব্যাপী শসার প্রচলন রয়েছে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায়  শসা রাখলে ওজন হ্রাস পায়। কারণ শসায় নিম্নমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত উপাদান রয়েছে। আপনি প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় সালাদ হিসাবে রাখতে পারেন।

১০.হজমশক্তি বৃদ্ধি :নিয়মিত শসা খেলে হজমশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ধীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে।

১১.ত্বকের সৌন্ধর্য বৃদ্ধিতে :ত্বকের সৌন্ধর্য বৃদ্ধিতে শসার নাম ব্যাপক পরিচিত।শসায় উচ্চ পরিমানে  পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন আছে,যা ত্বকের সৌন্ধর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। শসা গোল গোল করে কেটে মুখে মেসেজ করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

১২.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় :আমাদের শরীরের জন্য যেসব ভিটামিনের চাহিদা ব্যাপক সেসব ভিটামিনের বেশির ভাগই শসার মধ্যে রয়েছে। ভিটামিনের এই ঘাটতি পূরণের ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

১৩.শরীরের বর্জ্য দূর করে :শসা আমাদের শরীরের বর্জ্য দূর করে। বিভিন্ন কারণে আমাদের  শরীরে বিষাক্ত কিছু পদার্থ জমা হয়। শসা এসব পদার্থ দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

১৪.শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে :গরমের সময়ে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এসময় শসা আমাদের শরীরের তাপ শোষণ করে। ফলে শরীর ঠান্ডা থাকে।

১৫.পানিশুন্যতা দূরে করে :শসায় ৯০% পানি থাকে। ফলে তৃষনা মেটাতে ও

 শরীরের পানিশুন্যতা দূর করতে শসা অনেক কার্যকরী।

১৬ হার্টের রোগ : আর্থারাইটিস হার্টের রোগ প্রতিরোধ করতে শসার ব্যবহার করা হয়। 

 

শসার অপকারিতা :

শসা একটি লো ক্যালোরিযুক্ত খাবার। তাই ওজন কমানোর জন্য শসার প্রচলন অনেক বেশি। তাই ওজন কমানোর জন্য আপনি যদি খিধা লাগলেই শসা খেতে থাকেন তাহলে কিছুদিন পর দেখা যাবে যে আপনার শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাথা ঘুরছে। কোনো কাজ করার শক্তি পাচ্ছেননা। তাই শুধুমাত্র শসার উপর পড়ে না থেকে অন্যসব খাবার পরিমাণমতো খেতে হবে।

অতিরিক্ত শসা খেলে বমি বমি ভাব ,পেট ফাঁপা ,বদহজম ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। তবে অন্যান্য খাবারের সাথে নিয়মিত পরিমাণমতো শসা খেলে কোনো সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা নেই।

পরিশেষে বলা যায় ,শসার পুষ্টিগুণ অনেক ওজন কমানোর জন্য এটি একটি আদর্শ পথ্য। কিন্তু অতিরিক্ত খেলেই ঘটবে বিপত্তি। তাই পরিমাণমতো খাওয়া দরকার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ