মধুর ৩১ টি খাঁটি উপকারিতা

মধু। মধু হলো একটি প্রাকৃতিক উপাদান। মধুর উপকারিতা অপরিসীম। মধুকে প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক বলা হয়। কারণ মধুর মধ্যে রয়েছে সকল রোগের সেফা অর্থাৎ মুক্তি। নিয়মিত মধু খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। তাই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত মধু পান করতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ,যারা নিয়মিত মধু পান করে তারা জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হয়না।

মধুর উপকারিতা


মধুতে ৪৫ টির ও বেশি খাদ্য উপাদান রয়েছে । মধুতে কোনো চর্বি ও প্রোটিন থাকেনা।১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি। মধুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, আয়োডিন, জিংক ও কপার সহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫%  গ্লুকোজ, ৪৩% ফ্রুক্টোজ, ৩% সুক্রোজ এবং ১২% মন্টোজ, ২২% অ্যামাইনো এসিড, ২৮% খনিজ লবণ এবং ১১% এনজাইম। 

মধু খাওয়ার উপযুক্ত সময় হলো সকালে খালি পেটে। আপনি যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খান তাহলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ,হজমশক্তি বৃদ্ধি পাবে ,কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে ,জ্বর -সর্দি সারবে ,রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে যাবে ,ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া মধুর আরো অনেক ও বহুবিধ উপকার রয়েছে।

মধুর উপকারিতা :

১. মধুতে এক ধরণের বিশেষ ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান আছে। এই উপাদান শরীরকে বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।

.যারা শারীরিকভাবে দুর্বলতায় ভোগেন মধু তাদের জন্য একটি আদর্শ পথ্য। কেননা মধু শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।

.প্রতিদিন অল্প করে মধু পান করলে জ্বর ,সর্দি ,কাশি ইত্যাদি থেকে নিস্তার পাওয়া যায়।

.গলা ব্যাথা ,টনসিল ,ঠাণ্ডাজনিত যেকোনো রোগ প্রতিরোধে মধু বেশ কার্যকর।

.মধু দৈহিক গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে শিশুদের দৈহিক মানসিক বৃদ্ধিতে মধু কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান।

.যারা ঘন ঘন মাথা ব্যাথায় ভোগেন তাদের জন্য মধু খাওয়া অপরিহার্য। নিয়মিত মধু খেলে মাথা ব্যাথা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়।

.বাতের ব্যাথা উপশমে মধু ভালো কাজ করে।

.অনেকে দাঁত ব্রাশ করলেও মুখের দুর্গন্ধ থেকে যায়। তাদের জন্য বেস্ট সলুশন হচ্ছে মধু। কেননা মধু মুখের দুর্ঘন্ধ দূর করে।

.অনেকে জন্মগতভাবে মুখের জড়তায় ভোগেন। নিয়মিত মধু খেলে মুখের জড়তা দূর হয়।

১০.মধু ফুসফুসের ময়লা পরিষ্কার করে ফুসফুসকে চাঙ্গা কার্যক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

১১.মধু রক্তের সাথে ক্ষতিকারক উপাদান মিশতে বাধা প্রদান করে ,ফলে রক্ত ভালো থাকে।

১২.মধু খেলে রুচি বৃদ্ধি পায় ,হজমশক্তি বাড়ে। ফলে খাবারে অনীহা দূর হয়।

১৩.নিয়িমিত মধু পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। টানা এক সপ্তাহ মধু খেয়ে পরীক্ষা করতে পারেন।

১৪.মধু মাথার চুল পড়া বন্ধ করে এবং ত্বক মসৃন সুন্দর রাখে। কারণ মধুতে রয়েছে স্টার্চ ডাইজেস্টি এনজাইমস এবং মিনারেলস।

১৫.মধু মস্তিস্ক স্নায়ুর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে কারণ মধুতে ভিটামিন -বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে।

১৬.শীতকালে নিয়মিত মধু পান করলে শরীরের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।

১৭.অনেকসময় শিশুদের মুখের ভিতর পঁচনশীল ঘাঁয়ের সৃষ্টি হয়। এসময় শিশুদের মধু পান করালে এসব সমস্যা দূর হয়।

১৮.যারা গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগে ভুগতেছেন তারা নিয়মিত মধু খেতে পারেন। কারণ মধু খেলে গ্যাস্ট্রিক আলসার দূর হয়।

১৯.মধু পাকস্থলীতে বিভিন্ন ধরণের প্রদাহ দূর করে।

২০.নিয়মিত মধু খেলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়। বিশেষ করে মেয়েদের মাসিকের সময় নিয়মিত মধু খেতে পারেন। এইসময় মধু খেলে রক্তস্বল্পতা সহজে দূর হয়।

২১.মধুতে প্রচুর পরিমানে ক্যালোরি রয়েছে। এই ক্যালোরি রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমান বৃদ্ধি করে।

২২.মধু বয়সের রেখা দূর করে। নিয়মিত মধু খেলে বয়সের ছাপ লুকিয়ে রাখা যায়।

২৩.মধু ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং কোষকে ফ্রি রেডিকেলস এর হাত হতে রক্ষা করে।

২৪.এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ মধু শরীরকে শক্তিশালী সবল করে তোলে।

২৫.নিয়মিত মধু খেলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।

২৬.দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতেও মধু বেশ কার্যকর। যারা চোঁখের বিভিন্ন সমস্যায় ভুকতেছেন তারা নিয়মিত মধু পান করতে পারেন।

২৭.মধু দাঁতের মাড়ি শক্ত করে এবং দাঁতকেও শক্তিশালী করে তোলে।

২৮.মধু পানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। নিয়মিত মধু পানে হৃদযন্ত্র কার্যক্ষম হয়ে ওঠে।

২৯.নিয়মিত মধু পান করলে রক্তনালীর প্রসারণ ঘটে যার ফলে রক্ত সঞ্চালন সহজ হয়ে ওঠে।

৩০.প্রতিদিন সকালে এক কাপ হালকা গরম পানিতে এক চামচ মধু লেবু মিশিয়ে খেলে দ্রুত ওজন হ্রাস পায়।

৩১.গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত মধু পান করালে ক্যালোরির ঘাটতি পূরণ হয়।

 

 সহবাসে মধুর উপকারিতা

সহবাসে মধুর উপকারিতা ব্যাপক।নিয়মিত মধু কালোজিরা একসাথে খেলে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করে। বীর্য গাড়ো বীর্য বৃদ্ধি করে। দীর্ঘক্ষন সহবাসের মজা পাইতে হলে নিয়মিত খাঁটি মধু খেতে হবে। স্বামী -স্ত্রী উভয়েই নিয়মিত মধু খেতে পারেন। স্ত্রীকে পর্যাপ্ত যৌন তৃপ্তি দিতে চাইলে নিয়মিত মধু খেতে হবে।

কালোজিরা মধুর উপকারিতা

কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। কালোজিরাকে  প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক বলা হয়। সকল রোগের মহাঔষধ হলো এই কালোজিরা। আর মধুকে সকল রোগের সেফা বলা হয়। তাই মধু কালোজিরা একত্রে খেলে শরীরে অভেদ্য প্রাকৃতিক এন্টিবডি তৈরি হয়। এই এন্টিবডি সকল রোগ প্রতিরোধ করে। যৌন সমস্যা থেকে শুরু করে সর্দি -কাশি ইত্যাদি সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে এই মধু কালোজিরার মধ্যে।

প্রতিদিন সকালে খালিপেটে এক চামচ মধু সামান্য কিছু কালোজিরা একসাথে চিবিয়ে খেয়ে নিন। এভাবে ১৫ দিন খাওয়ার পর পরিবর্তনটা নিজে নিজে টের পাবেন।

অতএব ,সুস্থ্য থাকতে হলে প্রতিদিন একটু করে মধু খেতে হবে। উপরোক্ত লেখনী থেকে নিচ্চই মধুর পুষ্টিগুণ সম্মন্ধে ধারণা পেয়েছেন ।সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব খাঁটি মধুর সন্ধান করুন।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ